আইকন
Now Reading
বিল গেটস বনাম স্টিভ জবস

বিল গেটস বনাম স্টিভ জবস

সাইকেল-রেস কিভাবে জিতে জানেন? সবসময় আগে আগে চলতে নেই। মাঝে মাঝে পেছনের জনকে আগে যেতে দিতে হয়। যাতে সে এগিয়ে যায়, যে কোন বাধা-বিপত্তি ও তীব্র বাতাসকে সেই আগে মোকাবেলা করে এবং আপনাকে ঠিক তার পেছনে থাকতে হয়। এরপর পূর্ববর্তী ব্যক্তিটি পড়ে গেলেই আপনাকে তখন দ্রুত গতিতে এগিয়ে যেতে হয়। জানুন দুই মহারথীর অনন্য গল্প।

toto

১৯৭৪ সালের আগ পর্যন্ত পার্সোনাল কম্পিউটার বলে কোন ধারণাই ছিল না। এরপর মেক্সিকোর একটি কোম্পানী পৃথিবীর প্রথম পার্সোনাল কম্পিউটার হিসেবে ‘আল্টেয়ার’-এর উন্মোচন করে। অবাক করার ব্যাপার হলো, এটাতে কোন অপারেটিং সিস্টেমই ছিল না। সুতরাং আজকের দিনের হিসেবে সেটাকে একটা খেলনাই বলা যেতে পারে। বিল গেটস সেটাতে প্রোগ্রাম যুক্ত করে সেটাকে সচল করার জন্যে বদ্ধ পরিকর হন। ‘আল্টেয়ার’-এর জন্যে ৩,০০০ ডলারে প্রোগ্রাম বিক্রি করার মাধ্যমে বিল গেটসের শুরুটা হয়েছিল। কিন্তু এই প্রোগ্রামটা ছিল অনেকটা কাগজে পাঞ্চ করা ফুটো বিশেষ, যা দিয়ে আসলে তৈরি হতো কমান্ড। আলটেয়ারের প্রোগ্রাম বিক্রি করা ৩,০০০ ডলার দিয়ে ১৯৭৫ সালে বিল গেটস ও পল অ্যালেনের কোম্পানী ‘মাইক্রোসফট’-র যাত্রা শুরু হয়।

এদিকে আরও দুজন ব্যক্তি পার্সোনাল কম্পিউটারের ধারণাকে তৈরি করছিল সম্পূর্ণ এক ভিন্ন পদ্ধতিতে। তাঁরা স্টিভ জবস ও স্টিভ ওজনিয়াক। প্রথমদিকে দুই বন্ধু মিলে প্রথমে যে জিনিসটি তৈরী করেন সেটা হলো একটা ব্লু বক্স। এর মাধ্যমে পৃথিবীর যেকোন স্থানে বিনামূল্যে কথা বলা যেত। ব্লু বক্স বিক্রি করে তাঁরা ৬ হাজার ডলারের মতো সংগ্রহ করেন। এরপর স্টিভ ওজনিয়াকের সাথে কম্পিউটার বোর্ড বানানোর পরিকল্পনা করেন স্টিভ জবস। কথা মতই তৈরি হয় একটি সার্কিট বোর্ড এবং পরিকল্পনা হয় সেটি বিক্রি করার। মূলত সেদিন থেকেই ‘অ্যাপল কম্পিউটার’-র সূচনা। প্রতি সার্কিট বোর্ডের জন্য স্টিভ জবস ১০০ ডলারের প্রস্তাব পান। এরপর তাঁরা ‘আল্টেয়ার’-এর মতোই মাইক্রোপ্রসেসর ব্যাবহার করে প্রায় ১৬ গুণ বেশি মেমরী দিয়ে ‘অ্যাপল’ নামে প্রকৌশলীদের উপযুক্ত করে একটি কম্পিউটার বানান। তাছাড়া এই কম্পিউটারেই প্রথম কীবোর্ড ও মনিটর যুক্ত করা হয়। শুধু তাই-ই নয় বরং এটিতে সরাসরি কীবোর্ডের মাধ্যমে কোমান্ড টাইপ করা যেত যা মনিটরে দেখা যেত। কিন্তু এটি ব্যবসায়িকভাবে ততোটা সাফল্য অর্জন করতে পারেনি। বলা যায়, এটি অনেকের অগোচরেই থেকে যায়। কিছুদিনের মধ্যেই ১৯৭৭ সালে বন্ধু স্টিভ ওজনিয়াকের সহযোগিতায় অ্যাপল-২ নামের একটি উন্নত কম্পিউটার বানাতে তাঁরা সক্ষম হন। এই কম্পিউটার বিল গেটসের নজরে আসলে, তিনি সেটিকে বিজনেস সফটওয়্যার চালানোর উপযোগী করার জন্যে সেখানে নতুন একটি সার্কিট বোর্ড যুক্ত করার পরামর্শ দেন এবং সফল হন। বিল গেটস স্টিভ জবসকে তাঁর জনপ্রিয় হোম কম্পিউটারকে একটি শক্তিশালী যন্ত্রে পরিণত করার উপায় দেখিয়ে দেন। এটি অ্যাপলের সাফল্য ছিল আর একই সাথে মাইক্রোসফটেরও। ২ বছরের মধ্যে অ্যাপল-২ সবার সুনজরে চলে আসে। একইসাথে মাইক্রোসফটের সার্কিট বোর্ড বিক্রি করার প্রধান উৎস হয়ে দাঁড়ায় অ্যাপল। মাইক্রোসফটের বিক্রি বেড়ে যায় দিগুণ।

এদিকে একই সময়ে অর্থাৎ ১৯৮০ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে বিল গেটস আইবিএম-এর সাথে একটি অন্যন্য চুক্তি করেন, যা এখনও প্রযুক্তি ক্ষেত্রে অন্যতম বড় চুক্তি হিসেবে মানা হয়। আইবিএম সেসময় যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় বহুজাতিক কোম্পানি – সারাবিশ্বে তাঁদের কর্মচারীর সংখ্যা প্রায় সাড়ে ৩ লক্ষ। এবং সেসময় আইবিএম নিজস্ব পার্সোনাল কম্পিউটার ‘পিসি’ বাজারে ছাড়ার পরিকল্পনা করে এবং এজন্যে তাঁদের একটি অপারেটিং সিস্টেমের প্রয়োজন ছিল। আর অপারেটিং সিস্টেমের প্রোগ্রাম লেখার জন্যে আইবিএম-এর কোন ইঞ্জিনিয়ারই সক্ষম ছিল না। কথাটি বিল গেটসের কাছে যাওয়া মাত্রই, তিনি আইবিএম-এর পিসিতে অপারেটিং সিস্টেম দেয়ার পরিকল্পনা করেন। কিন্তু বিল গেটসের কাছেও কোন অপারেটিং সিস্টেম না থাকায় টিম পিটারসন নামের এক কম্পিউটার প্রোগ্রামারের কাছ থেকে ৫০,০০০ ডলারের বিনিময়ে ‘ডস’ নামের একটি অপারেটিং সিস্টেম কিনে নেন। বিল গেটস সেটির নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দেন ‘এমএস ডস’। বিল গেটস চিন্তা করলেন, এই অপারেটিং সিস্টেম তিনি আইবিএম-এর কাছে বিক্রি করবেন না। এবারে বিল গেটস আইবিএম এর সাথে সেই যুগান্তকারী চুক্তিটি করেন- প্রতি কম্পিউটার পিছু ৩ ডলার মাইক্রোসফট পাবে এবং একই সাথে অন্য কোন তৃতীয় পক্ষের কাছে এই অপারেটিং সিস্টেম বিক্রি করার অধিকার বিল গেটসের কাছে সংরক্ষিত থাকবে। ১৯৮১ সালে মাত্র ৩ মাসের মধ্যে ৫০,০০০ পিসি বিক্রি হয়ে যায়।

এতোদিনে অ্যাপল-২ বাজারের জনপ্রিয় কম্পিউটারগুলোর অন্যতম হয়ে উঠেছে, যার বিক্রি দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৭০ লক্ষ ডলারে। কিন্তু স্টিভ জবস পুরোপুরি সন্তুষ্ট হতে পারেননি। আবার স্টিভ জবস, বিল গেটসের কম্পিউটার বিশ্বে আধিপত্য বিস্তারের বিষয়টিকে বেশ ভালোভাবেই নজরদারি করছিলেন। তাই মাইক্রোসফটের সাথে অ্যাপলকে প্রতিযোগিতায় রাখতে অ্যাপলের আরেক প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ ওজনিয়াকের সাহায্যে স্টিভ জবস এমন একটি অত্যাধুনিক কম্পিউটার বানানোয় হাত দিয়েছিলেন, যা বিল গেটসেকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিতে পারে। সেটি ছিল ম্যাকিনটোশ। যদিও ম্যাকিনটোশের বেশিরভাগ প্রোগ্রাম বিল গেটসের কাছ থেকেই নেয়া হচ্ছিল। এই কম্পিউটারে সর্বপ্রথম মাউস ব্যবহার করার হয় এবং মনিটরে আইকন ও উইন্ডোজ দেখা যায়। আর এটি সম্ভব হয়েছিল অ্যাপলের নিজস্ব অপারেটিং সিস্টেমের কারণে। বলা যায় এ দিয়ে তারা আইবিএম/মাইক্রোসফটের তুলনায় কম্পিউটার/অপারেটিং সিস্টেমের দিক দিয়ে প্রায় ১ যুগ এগিয়ে ছিল। যেহেতু বিল গেটস আগে থেকেই স্টিভ জবসের কাছে প্রোগ্রাম বা সফটওয়্যার বিক্রি করতেন। তাই স্টিভ জবস তার সফটওয়্যারের যোগানদাতা বিল গেটসকে নিয়ে বিশেষ সতর্ক থাকার প্রয়োজন মনে করেননি। আর এই মহা-সুযোগটিকে বিল গেটস কাজে লাগান তাঁর ভবিষ্যৎ নির্মাণে ।

বিল গেটস সিদ্ধান্ত নেন, অ্যাপলের মতো উন্নত আরেকটি সিস্টেম বানিয়ে সেটি অ্যাপলের প্রতিপক্ষদের কাছে বিক্রি করার। বিল গেটস অ্যাপলের অপারেটিং সিস্টেমের গোপন প্রযুক্তি খুঁজে বের করেন। মূলত এর মাধ্যমেই বিল গেটস তাঁর ভবিষ্যৎ দেখতে পান। কিন্তু নতুন অপারেটিং সিস্টেম বানাতে এখনও ২ বছর বাকি। কিন্তু বিল গেটস এই ঘোষণা দিলেন ১৯৮৩ সালেই এবং তিনি সেটির নাম ঠিক করেন ‘উইন্ডোজ’। এসময় মাইক্রোসফটের ব্যাবসা ১০ কোটি ডলারে পৌঁছায় এবং বিল গেটসের বক্তিগত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ৭ কোটি ডলারেরও বেশি। তখন বিলের বয়স মাত্র ২৭ বছর। ১৯৮৪ সালে বিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিন ‘এমএস ডস’ অপারেটিং সিস্টেমকে ‘দ্য ম্যাজিক ইনসাইড দ্য মেশিন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছিল। সেসময় প্রতি দু’টি কম্পিউটারের ১টিতে ‘এমএস ডস’ অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করা হতো।

যখন মাইক্রোসফট উইন্ডোজের কথা স্টিভ জবসের কানে আসে, তখন তাঁর ম্যাকিনটোশ বাজারে আসতে মাত্র কয়েক সপ্তাহ বাকি। স্টিভ জবস ১৯৮৪ সালের ২৪ জানুয়ারি ম্যাকিনটোশের ঘোষণা দেন। কিন্তু ম্যাকিনটোশের উন্মোচন, নকশা খুব সুন্দর হলেও সেটি খুব ধীরগতির হওয়ায় স্টিভ জবসের ম্যাকিনটোশ পৃথিবীতে সাড়া জাগাতে ব্যার্থ হয়। ম্যাকিনটোশের বিক্রি মাসে ৫০০ তে গিয়ে দাঁড়ায়। স্টিভ জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে বহিষ্কৃত হন, যিনি কিনা নিজেই অ্যাপলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা। এটা স্টিভ জবসের কাছে ছিল তাঁর বিশ্বাসে আঘাত লাগার মতো। ১৯৮৫ সালের ২০ নভেম্বর বিল গেটস তার মাইক্রোসফটের অধীনে ম্যাকিনটোশের অপারেটিং সিস্টেম নকল করে ‘উইন্ডোজ’ নামে একটি নতুন একটি অপারেটিং সিস্টেম বাজারে ছাড়েন। এরপর বিল গেটস ও তাঁর মাইক্রোসফট অ্যাপলের সকল প্রতিপক্ষ কোম্পানিকে ‘উইন্ডোজ’ নামের নতুন একটি অপারেটিং সিস্টেমটি দেন। পিসি ও ম্যাকিনটোশের প্রতিযোগিতা আরও বেড়ে যায়।

স্টিভ জবস অ্যাপলের প্রধান নির্বাহীর পদ থেকে বহিষ্কৃত হয়ে একপ্রকার একঘরে হয়ে যান। অন্যদিকে তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বিল গেটস মাইক্রোসফটকে একটি সম্রাজ্যে পরিণত করতে থাকেন। এর পরের ১০ বছরের মধ্যে বিশ্বের প্রায় ৯৫% কম্পিউটারে ‘উইন্ডোজ’-র সিস্টেম ব্যবহার করা হয়। স্টিভ জবস বিল গেটসের কাছে হেরে যান আর বিল গেটসের সামনে থেকেও অনাগত বাধা সরে যায়। ১৯৯৫ সালে বিল গেটস ৪০ বছর বয়সে সাফল্যের চরম শিখরে পৌঁছে যান। বিশ্বের ৯৫তম ধনী হিসেবে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়ায় ১৩০ কোটি ডলারে। বিল গেটসের পথচলা চলতে থাকে। তিনি উইন্ডোজের সাথে আরও কিছু প্রোগ্রাম যুক্ত করতে থাকেন। সেগুলো কারও প্রয়োজন হোক বা না হোক।

আরও পড়ুনঃ প্রযুক্তির রাজকুমার স্টিভ জবস

এরপর কিছুদিন পর থেকেই মাইক্রোসফটের একরোখা কৌশলগুলো ব্যার্থ হতে শুরু করে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ অভিযোগ করে- মাইক্রোসফটের ব্যাবসায়িক পদ্ধতী সঠিক নয়। বিল গেটসের আইনি সমস্যা বাড়তে থাকে। তাঁর সুন্দর ভাবমুর্তি তছনছ হতে থাকে। সংবাদ মাধ্যমে তাঁকে নিয়ে ব্যাঙ্গচিত্র ছাপানো শুরু হয়। বিল গেটস, যিনি কয়েক বছর আগেও কম্পিউটার দুনিয়ার যাদুকর হিসেবে পরিচত ছিলেন, সেই তিনিই তখন হয়ে উঠেন শয়তানের প্রতীক। সেসময় মাইক্রোসফটের শেয়ার ৩০% শতাংশ পরে যায়, হ্রাস পায় ব্যাক্তিগত সম্পদের পরিমাণও। সুচতুর ও সুদক্ষ বিল গেটস নিজের আত্মপ্রত্যয় হারিয়ে ফেলেন। প্রবল চাপের মুখে তিনি ভেঙ্গে পরেন।

আর এদিকে স্টিভ জবস বিহীন অ্যাপল সৃজনশীলতা-শূন্য হয়ে পড়ে। ১৯৯৬ সালে অ্যাপল ১০০ কোটি ডলার ক্ষতির সম্মুখীন হয়। ১২ বছর পর বোর্ডের সিদ্ধান্তক্রমে স্টিভ জবস পুনরায় অ্যাপলের সিইও হিসেবে ফিরে আসেন। অ্যাপল ততোদিনে নিস্ব। তাই অ্যাপলের নতুন আবিষ্কার শুরু করার জন্য স্টিভ জবসের প্রথম প্রয়োজন হয় অর্থের। অর্থ যোগার করার জন্যে যেকোন অপ্রীতিকর কাজ করতেও বদ্ধ পরিকর ছিলেন স্টিভ জবস। তিনি বিল গেটসকে অ্যাপলে বিনিয়োগ করার অনুরোধ করেন।

অ্যাপলকে হেরে যেতে দেয়াটা বিল গেটসের সমুচীন মনে হয়নি। বিল গেটস স্টিভ জবসের ডাকে সাড়া দেন। তিনি অ্যাপলে ১৫ কোটি ডলার বিনিয়োগ করেন। স্টিভ এবার অ্যাপলের হাল বেশ শক্ত ভাবেই ধরেন। ২০০১ সালে স্টিভ একেবারে কম্পিউটার ছেড়ে বেরিয়ে আইপডের মতো আনকোরা নতুন পণ্য বাজারে আনতে থাকেন। এর আগে কেউ ভাবতেই পারেনি, আমরা হাজার হাজার গান সাথে নিয়ে ঘুরতে পারব। সবাই বললেন ‘দারুন’। কিন্তু স্টিভ জবস বললেন- ‘না, এমন একটা দিন আসবে যেদিন একটা স্মার্টফোনের মধ্যেই এসব হবে।’ এরপর তিনি আবিষ্কার করেন আইফোন। ২০০৭ সালে সমর্থকেরা ১০০ ঘন্টারও বেশি লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন স্টিভ জবসের ঐতিহাসিক সৃষ্টি কেনার জন্যে- আইফোন। আর অ্যাপল বিশ্বের শ্রেষ্ঠ প্রযুক্তি কোম্পনী হওয়ার পথে আরও একধাপ এগিয়ে যায়।

আপনাকে যদি এ যুগের কোন একজন মানুষের নাম নিতে বলা হয় যিনি প্রযুক্তিকে সবচে বেশি প্রণোদিত করেছেন, তিনি স্টিভ জবস।

স্টিভ জবসের খ্যাতি যখন আকাশছোঁয়া তখন বিল গেটসের তখন অস্তিত্ব সংকট দেখা দিতে থাকে। বিল গেটস মানুষের ভালবাসা চেয়েছিলেন আর চেয়েছিলেন ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ মানুষদের তালিকায় তাঁর নামটাও যাতে লেখা থাকে। তাঁর ঐতিহ্য ফিরে পাওয়ার চেষ্টায় বিল গেটস, বিশ্বের অন্যতম ধনী ব্যাক্তি, আশ্রয় নেন সমাজ সেবায়। গঠন করেন ‘বিল ও মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশন’ নামে বিশ্বের বৃহত্তম প্রাইভেট ফাউন্ডেশন। তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদের অধিকাংশ-২৪০ কোটি ডলার তিনি সেখানে দান করেছেন। ২০০৮ এর জুন মাসে তিনি মাইক্রোসফটের কর্ণধরের পদ থেকে সরে গিয়ে পুরো বিশ্বকে অবাক করে দেন। বিল গেটস ও তাঁর স্ত্রী মেলিন্ডা গেটস বর্তমানে সারা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের দরিদ্র ও আর্ত্ম মানুষদের সেবায় নিয়োজিত। তিনি বিশ্বের সবচে’ মহৎ সমাজসেবী।

বিল গেটস এক সময় তাঁর সফটওয়্যার প্রোগ্রামের মাধ্যমে বিশ্ব জয় করতে চেয়েছিলেন, আজ তাঁর লক্ষ্য মানব সভ্যতার ইতিহাসে শ্রেষ্ঠ দাতা হয়ে ওঠা।

অ্যাপলে ফিরে আসার কয়েক বছর ধরে স্টিভ জবস একটা বিষয় চাপা দিয়ে রেখেছিলেন- তিনি অগ্নাশয়ের ক্যান্সারে ভুগছেন। ২০১১ সালে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার কারণে তিনি অ্যাপলের সিইও হিসেবে পদত্যাগ করেন। একই বছরের ৫ অক্টোবর তিনি মারা যান। তাঁর মৃত্যু সারাবিশ্বকে শোকগ্রস্থ করে তোলে। মৃত্যুর পরের বছরেই অ্যাপল পৃথিবীর সবচে দামী প্রযুক্তি কোম্পানীর স্বীকৃতি পায়।

স্টিভ জবস ও বিল গেটসের সম্পর্কটা খুবই জটিল ছিল। তাঁরা ছিলেন অনেকটা ‘বাইনারি স্টার’ সিস্টেমের মতো। ১৯৭০ দশক থেকে শুরু করে তাঁরা একে অপরের চারদিকে ঘোরেন। তাঁদের দুজনেরই আকর্ষণ করার একটি অন্যন্য ক্ষমতা ছিল। আবার একদিক দিয়ে তাঁরা দুই ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁরা জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপে একে অপরের পাশে ছিলেন- কখনও শত্রু, কখনও বন্ধু হিসেবে। একে অপরের প্রতি নিষ্ঠুর ছিলেন। কিন্তু শেষমেশ বন্ধু হয়ে গিয়েছিলেন। কারণ তাঁরাই সেই দুই পথিকৃৎ, যাঁরা কম্পিউটারের বর্তমান সম্রাজ্যের নির্মাণ করেছেন।  [তথ্যসূত্রঃ হিষ্ট্রি]

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন