এনিমেল ওয়ার্ল্ড
Now Reading
পুরুষসঙ্গী ছাড়াই মা হবে ‘কুমারী’ হাঙড়

গত দু’ বছর ধরে কোনও পুরুষের সংস্পর্শে আসেনি সে। তা সত্ত্বেও সে এখন অন্তঃসত্ত্বা! আর তাতেই তাজ্জব বিজ্ঞানীরা। আলোচনার পাত্রীটি একটি হাঙর। প্রজাতির পোশাকি নাম হোয়াইট স্পটেড ব্যাম্বু শার্ক। ২০১৩ সালে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল ইংল্যান্ডের গ্রেট ইয়ারমাউথের সি লাইফ সেন্টারে। তখন থেকেই সে আর কোনও পুরুষ হাঙরের মুখ দেখেনি, সংসর্গ তো দূরের কথা। অথচ, তারই শরীরে এখন বেড়ে উঠছে দু’টি নিষিক্ত ডিম্বাণু, যেখান থেকে ন’মাস পরে জন্ম নেওয়ার কথা দুই হাঙর-শিশুর।

মেরিন বায়োলজিস্ট এবং হাঙর বিশেষজ্ঞ ড্যারেন গুক বলছেন, ‘সামুদ্রিক বাস্ত্ততন্ত্রে এমন ‘ভার্জিন বার্থ’ ঘটতে আগে কখনও দেখিনি আমরা। এ রকম একটা মিরাক্লের প্রত্যাশা করা যেমন ভাগ্যের কথা, তেমনই উত্তেজনার।’

ঘটনা হল, এই দুই নিষিক্ত ডিম্বাণু আবিষ্কারের খবর এসেছে এক অদ্ভুত বৈজ্ঞানিক সন্ধিক্ষণে। কারণ, ঠিক দু’ দিন আগেই জার্মানির মিউনিখ থেকে খবর এসেছে যে, সেখানেও একটি ব্যাম্বু শার্ক কুমারী মা হওয়ার দিকে এগিয়ে গিয়েছে এক ধাপ। এই প্রক্রিয়াকে বলে ‘পার্থেনোজেনেসিস’। এই প্রক্রিয়ায় পুরুষ সংসর্গ না-করেও কিছু মাদি তাদের অনিষিক্ত ডিম্বাণুতে দিব্যি যোগ করে ফেলে এক জোড়া অতিরিক্ত ক্রোমোজোম, ফলে তৈরি হয় তাদের অবিকল ছায়াচিত্র বা ‘ক্লোন ‘।

মুরগি আর কিছু সরীসৃপের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা প্রায়শই দেখা যায়। কিন্ত্ত তা যে হাঙরদের ক্ষেত্রেও হতে পারে , তা ২০০৮ -এর সালে বোঝাই যায়নি। গুক বলছেন , এত দিন ভাবা হত যে , এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জন্ম নেওয়া সন্ততিরা আর প্রজননে সক্ষম হয় না। কিন্ত্ত জার্মানির সাম্প্রতিক ঘটনা সেই ধারণাকে ভুল প্রমাণ করেছে। তাঁর আশা , ইয়ারমাউথের মাদি হাঙরটির ক্ষেত্রে সেটা আরও জোরালো ভাবে প্রমাণিত হবে।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন