সায়েন্স ওয়ার্ল্ড
Now Reading
মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আবিষ্কারঃ ‘টাইম ট্রাভেল’ কি সম্ভব?

মহাকর্ষীয় তরঙ্গের অস্তিত্বের প্রমাণ তো পাওয়া গেল। কিন্তু বিজ্ঞান বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন এক প্রশ্ন। তবে কি ‘টাইম ট্রাভেল’ সম্ভব? না, এটি কোন অযৌক্তিক প্রশ্ন না। প্রশ্ন আসতেই পারে।

স্থান-কালের কথাই চিন্তা করুন, যা সমগ্র ব্রম্মান্ডব্যাপী বিদ্যমান একটি মহাজাগতিক কাঠামো এবং এটি গ্রহ, নক্ষত্র, কৃষ্ণ গহ্বর ছাড়াও যেকোন মহাজাগতিক বাস্তু দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে। যে কোনও বস্তু নিজের চারপাশে শূন্যস্থান বা ‘স্পেস’-কে দুমড়ে-মুচড়ে দেয়। এটিকে সাধারণত আমরা মহাকর্ষ হিসেবেই জানি। তার মানে, মহাকর্ষ আসলে শূন্যস্থান বা ‘স্পেস’-এর জ্যামিতির খেলা।

কিন্তু মহাকর্ষ সম্পর্কে নিউটন ও আইনস্টাইনের ব্যাখ্যার পার্থক্য আছে। নিউটন বলেছিলেন, মহাকর্ষ হল দুই বস্তুর মধ্যে অদৃশ্য আকর্ষণ বল। আইনস্টাইনের মতে, মহাকর্ষ তা নয়, মহাকর্ষ আসলে অন্য ব্যাপার। নিউটনের মতে, সূর্য পৃথিবীকে কাছে টানতে চায় বলে পৃথিবী তার চারদিকে ঘোরে। আর আইনস্টাইনের ব্যাখ্যায়, সূর্যের উপস্থিতিতে তার চারপাশের ‘স্পেস’ যে দুমড়ে-মুচড়ে যায়, সেই ‘স্পেস’-এর মধ্যে দিয়ে চলার সময় পৃথিবীর গতিপথ বেঁকে যায়।

যাইহোক, আপাতদৃষ্টিতে মহাকর্ষীয় তরঙ্গের আবিষ্কারের ‘সময় পরিভ্রমণ’ করার জন্য কোন সুখবর এনে দিচ্ছে না। স্থান-কালের মধ্য দিয়ে সময় পরিভ্রমণ আদৌ সম্ভব কি না, সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে তার আগে আমাদের স্পেস-টাইমকে ভালোভাবে পড়তে হবে, জানতে হবে অনেক অজানা রহস্যের কারণ। সবে তো মাত্র ‘মহাকর্ষীয় তরঙ্গ’ আবিষ্কৃত হলো। এই আবিষ্কার স্থান-কালের ধারণাকে উন্মোচিত করতে নতুন উপায়ের সন্ধান এনে দিবে নিঃসন্দেহে।

তার পরেও ‘কিন্তু’ রয়েছে কিছু কিছু! এই প্রথম সরাসরি মহাকর্ষীয় তরঙ্গের হদিশ মিললেও, তাকে ‘ধরা’ সম্ভব হয়েছে শুধুই মহাকাশের একটি প্রান্ত থেকে। মহাকাশের অন্য প্রান্তে, ওই তরঙ্গের হদিশ মেলেনি এখনও। জানা যায়নি, আর কোন কোন উৎস থেকে ওই তরঙ্গের হদিশ মিলতে পারে।

এই অজানাকে জানতে শীঘ্রই মহাকাশে পাঠানো হচ্ছে ‘লিসা-পাথ ফাইন্ডার মিশন’। কারণ, ওই ক্রমেই ক্ষীণতর হয়ে আসা মহাকর্ষীয় তরঙ্গের হদিশ মহাকাশে পাওয়ার সম্ভাবনাটাই বেশি।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন