সায়েন্স ওয়ার্ল্ড
Now Reading
আলোর গতির রহস্যের জট খুলছে

আলোর গতির রহস্যের জট খুলছে

আলোর অদ্ভুত দুটি বৈশিষ্ট রয়েছে যা সমগ্র পদার্থ বিজ্ঞানকে এলোমেলো করে দিয়েছে। প্রথমত আলোর গতিবেগ ধ্রুব, দ্বিতীয়ত এই গতিবেগ মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতিবেগ। জগতের কোন বস্তু কখনও এত দ্রুতগামী হতে পারবেনা।

আমরা সাধারণ অভিজ্ঞতায় দেখতে পাই বস্তুর গতিবেগ উৎস ও পর্যবেক্ষকের গতির সাপেক্ষে নির্ধারিত হয়। উল্লেখ্য তরঙ্গের দোহাই দিয়ে আলো’কে বস্তু ভিন্ন পৃথক কোন সত্ত্বা ভাবা যাবেনা কেননা সকল বস্তুই গতিশীল অবস্থায় তরঙ্গধর্ম প্রদর্শন করে।

আলো নিজেও একটা বস্তু তথাপি এর গতিবেগ বস্তুর গতির সাথে তুলনীয় নয়। এটা ছিল পদার্থ বিজ্ঞানের ইতিহাসে অন্যতম সেরা রহস্য । নিউটনীয় বলবিদ্যা বস্তুর গতিপ্রকৃতি বর্ণনায় সম্পূর্ণ সফল হলেও আলোর গতিবিধি বিশ্লেষণে ব্যর্থ। সত্যিকার অর্থে আলো তথা বিকিরণের গতি বিশ্লষণে এতদিনকার পদার্থ বিজ্ঞানের কোন তত্ত্বই সফল নয় ।

আইনষ্টাইনের বিশেষ আপেক্ষিক তত্ত্বে আলোর গতির ধ্রুবতাকে প্রথম থেকেই স্বীকার্য হিসেবে ধরে নেওয়া হয়েছে । কেন আলোর গতি ‍ধ্রুব ? কেনই বা এই গতি মহাবিশ্বের সর্বোচ্চ গতিবেগ ? এসব প্রশ্নের উত্তর আপেক্ষিক তত্ত্ব দেয়নি ।

অবশেষে এসব অমিমাংসিত সমস্যার সমাধান পাওয়া গেছে অতি সম্প্রতি বাংলাদেশী পদার্থ বিজ্ঞানী ও গণীতবিদ – আবুল কালাম মোহাম্মাদ মেহেদী হাসান’ প্রস্তাবিত ‘মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্ব’ হতে ।

এই একীভূত তত্ত্ব অনুযায়ী- সময়, ভর ও গতিবেগ প্রত্যেকে প্রত্যেকের পরিপূরক।(অর্থাৎ প্রকৃতিতে এই তিনটি উপাদানকে বিচ্ছিন্নভাবে সর্বদা পাওয়া যায় মিশ্রিত অবস্থায়) এবং এই মহাজাগতিক মিশ্রনের কোন উপাদানকে কখনও পৃথক ভাবে পাওয়া যাবেনা সেই সাথে এই মিশ্রনের সাথে অন্য কোন উপাদান যোগও করা যাবেনা।অর্থাৎ গতিবেগ এবং পদার্থ দুটি পৃথক সত্তা – এই চিরায়ত ধারনা পরিত্যাগ করে মহান ঐক্যবদ্ধ তত্ত্বে ধরে নেওয়া হয়েছে যে ‘গতি’ বস্তুর অন্ত:র্নিহিত সত্তা। সহজ কথায় কোন বস্তুকে বল প্রয়োগে গতিশীল না করলেও বস্তু তার আভ্যন্তরীন গতির কল্যাণে দেশ কাঠামো সাপেক্ষে চলতেই থাকবে। মোট কথা গতি ছাড়া বস্তুর গঠন সম্ভব নয়। অর্থাৎ কোন বস্তর অস্তিত্ত্ব থাকলে সে বস্তুর অভ্যন্তরে গতিবেগও রয়েছে।

অতএব বস্তু সততঃ গতিশীল এবং দেশ কাঠামো সাপেক্ষে বস্তুর কোন স্তিতি নেই।

এখন আমরা পেয়েছি- বিকিরণ এবং বস্তু উভয়েই সততঃ গতিশীল। আবার আমরা জানি সকল প্রকার বিকিরণ গঠিত হয় মৌল কণিকা দ্বারা। যেমন আলো শুধুমাত্র ফোটন কণিকার স্রোত। অপরপক্ষে বস্তু গঠিত হয় বস্তুকণিকা যেমন প্রোটন, নিউট্রন, ইলেক্ট্রন ইত্যাদি দ্বারা। প্রতিটি বস্তুকণিকা একাধিক মৌল কণিকা দ্বারা গঠিত। যেহেতু গতিবেগ রাশিটির ‘মান’ এবং ‘অভিমূখ’ উভয়-ই রয়েছে এজন্য মুক্ত মৌলকার আভ্যন্তরীন গতিবেগ একমূখী কিন্তু বস্তু কণিকার আভ্যন্তরীন গতিবেগ বহুমুখী।

এই কারনে আলো’ একটি নির্দিষ্ট অভিমূখে অনবরতঃ অবিচ্ছিন্ন ভাবে চলমান থাকতে পারে। কিন্তু বস্তুকণিকাকে তার ‘ভর’ লাভ করার জন্য বহুমূখী আভ্যন্তরীন গতিবেগ সম্পন্ন করতে হয় এবং কেবল মাত্র বস্তু কণিকা তার ভর লাভের পরই কোন নির্দিষ্ট অভিমূখে চলমান হতে পারে।

মোট কথা আলো সবসময় চলমান এবং একটি নির্দিষ্ট দিকেই ছুটে চলে; অপরকপক্ষে বস্তু কণিকা প্রথমে আভ্যন্তরীন গতিকাল সম্পন্ন করে তারপর একটি নির্দিষ্ট দিকে চলমান হয়। বস্তুকণিকা যখন আভ্যন্তরীর গতিকাল সম্পন্ন করে তখনও আলো নির্দিষ্ট অভিমূখে চলতে থাকে। প্রতি মহুর্তে এই প্রক্রিয়া চলতে থাকে।

এভাবেই আলোর গতিবেগ ও বস্তুর গতিবেগ পৃথক মনে হয় কিন্তু প্রকৃত পক্ষে আলো এবং বস্তু উভেয়েই পদার্থ বিদ্যার একই আইনে শাসিত হয়।

 

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন