টেকওয়ার্ল্ড
Now Reading
গুগল প্লাস কি ব্যর্থ?

গুগল প্লাস কি ব্যর্থ?

গুগলের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গুগল প্লাস কাঙ্ক্ষিত সাড়া জাগাতে ব্যর্থ বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আশানুরূপ সফলতা না পাওয়ায় সম্প্রতি গুগল প্লাসে বিভিন্ন বিষয়ে পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিয়েছে গুগল কর্তৃপক্ষ।

বিশ্লেষকরা মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ সাইটগুলোর মধ্যে বর্তমানে একক আধিপত্য ফেসবুকের। প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ফেসবুক, টুইটার কিংবা লিংকডইনের তুলনায় অনেক পিছিয়ে রয়েছে গুগল প্লাস। এ মুহূর্তে নিজেদের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তা উন্নতিতে চেষ্টা করছে গুগল প্লাস। তাদের মতে, সাইটটি সরাসরি ব্যবহারকারীকে আকৃষ্ট করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বর্তমানে গুগলের যে ইকোসিস্টেম রয়েছে, তাতে একজন ব্যবহারকারী না চাইলেও গুগল প্লাসে ধাবিত হন। কিন্তু এটি তারা করেন গুগল ইকোসিস্টেমে আটকা পড়েই। যেমন কেউ ই-মেইল সেবা জিমেইল, ক্লাউডসেবা গুগল ড্রাইভ, ভিডিও শেয়ারিং ইউটিউব কিংবা ব্রাউজার ক্রোমে থাকলে তার অ্যাকাউন্টে গুগল প্লাসের সঙ্গেও যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু একজন ব্যবহারকারী যে আগ্রহ নিয়ে ফেসবুকে ঢুঁ মারেন, গুগল প্লাসের ক্ষেত্রে তা করেন না।

গুগল প্লাস ব্যবহারের প্রবণতা নিয়ে গবেষণা করেছেন ব্লগার কেভিন অ্যান্ডারসন। তার গবেষণা অনুসারে, গত জানুয়ারিতে যারা গুগল প্লাসে পোস্ট করেছেন, তারা সক্রিয় ব্যবহারকারী। সে হিসেবে গুগল প্লাসের সক্রিয় ব্যবহারকারী কম।

গুগলের সাবেক এক নির্বাহী বলেন, ফেসবুককে অনুসরণের চেষ্টা করেই ব্যর্থ হয়েছে গুগল প্লাস। আরেক নির্বাহীর মতে, সামাজিক যোগাযোগ খাতে প্রবেশে বেশ দেরি করেছে ফেলেছে গুগল প্লাস। সাইটটি নিয়ে কিছু ভুল সিদ্ধান্তও ভোগাচ্ছে। কয়েক বছর আগে গুগল নির্বাহীদের দলে ভেড়াতে নানা কৌশল আঁটে ফেসবুক। সেক্ষেত্রে তারা সফলও হয়। অথচ গুগলের সব নির্বাহীও গুগল প্লাসের বিষয়ে জানতেন না। মূলত সংশ্লিষ্ট বাজারে পিছিয়ে পড়ার পর অনেকটা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে ওঠেন গুগলের শীর্ষ কর্মকর্তারা।

আরেকজন সাবেক নির্বাহীর মতে, কোম্পানির নিজস্ব কর্মীদের নেটওয়ার্ক হিসেবেই গুগল প্লাসের যাত্রা। কিন্তু এটি উন্মুক্ত করে দেয়ার পর সেটির ব্যবস্থাপনা যথাযথ হয়নি। এছাড়া ফেসবুক বা লিংকডইন ব্যবহার বেশ সহজ। কিন্তু গুগল প্লাস তুলনামূলক জটিল। গুগলের অন্য সব সেবার সঙ্গেই এর সংযোগ থাকায় এতে প্রোফাইল ব্যবস্থাপনা ঝামেলা মনে করেন অনেক ব্যবহারকারী। গুগল প্লাসে কাউকে বন্ধু হিসেবে যুক্ত করতে চাইলে একটি সার্কেলে রাখতে হয়। অথচ ফেসবুকে একজনকে বন্ধু তালিকায় যোগ করা মাত্র এক ক্লিকের ব্যাপার।

আরেক নির্বাহীর মতে, গুগল প্লাস পিছিয়ে পড়ার অন্যতম কারণ মোবাইলবান্ধব না হওয়া। মোবাইল ডিভাইস থেকে ফেসবুক ব্যবহার সহজ করতে প্রতিনিয়ত কাজ করছেন এর নির্বাহীরা। বিপরীতে, গুগল প্লাসে পিসি নির্ভরতাই বেশি।

বিশ্লেষক ও গুগলসংশ্লিষ্টদের মতে, সাফল্য না পাওয়ার বড় কারণ হতে পারে গুগল প্লাসের প্রধান ভিক গানডোটরার অকস্মাত্ প্রস্থান। তার দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণায় হতবাক হন সবাই। তার যোগ্য কোনো উত্তরসূরি এখনো নিয়োগ দিতে পারেনি গুগল।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন