in

অ্যাপল এখন ট্রিলিয়ন ডলার কোম্পানি !

এ যেন এক স্বপ্নের উত্থান।  বিশ্বের টেকনোলজির লাইফলাইনে একের পর এক বিপ্লব এনেছে মার্কিন প্রযুক্তিপণ্য নির্মাতা সংস্থা অ্যাপল।  আবারও এই সংস্থা সারা দুনিয়ার খবরের শিরোনামে।  বৃহস্পতিবার অ্যাপল সংস্থার বাজার দর ছাড়াল ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার (১ লাখ কোটি মার্কিন ডলার)।  বিশ্বে এই প্রথম কোনো পাবলিক কোম্পানির আর্থিক মূল্য এক ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছাল। ১০০ কোটি সমান এক বিলিয়ন আর এক হাজার বিলিয়নে এক ট্রিলিয়ন।  ১ -এর পরে বারোটি শূন্য বসালে তবেই এক ট্রিলিয়ন।  অনেক বড় একটা সংখ্যা।

৪২ বছর আগে যে সংস্থার জন্ম সিলিকন ভ্যালির একটি ছোট্ট গ্যারেজে, আজ তা বিশ্বের সবচেয়ে দামী সংস্থা।  বৃহস্পতিবার ৫.৮৯ ডলার বেড়ে অ্যাপলের শেয়ার দর গিয়ে দাঁড়ায় ২০৭.৩৯ ডলারে।  সেই সঙ্গে এক ধাক্কায় বেড়ে যায় সংস্থার বাজার দর ($1,001,679,220,000)।  ১৯৯৭ সালে এই সংস্থা প্রায় দেউলিয়া হওয়ার দোড়গোড়ায় ছিল।  সেই সময়ে ফের সংস্থায় ফিরিয়ে আনা হল সহ প্রতিষ্ঠাতা স্টিভ জবসকে।  দেনা মেটাতে সেই সময়ে তিনি ১৫০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের সাহায্য চান মাইক্রসফ্টের থেকে।  সেই ছিল খাদের মুখ থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর প্রথম পদক্ষেপ।  আর তারপরেই আবির্ভাব আইফোনের।  সারা দুনিয়ায় ক্রমে ছড়িয়ে পড়ল iPhone ফিভার।  চলতি আর্থিক বর্ষে এখনও পর্যন্ত অ্যাপলের শেয়ার দর বেড়েছে ২৩ শতাংশ।  তবে ট্রেড বিশেষজ্ঞদের মতে আগামী এক থেকে দু’বছরের মধ্যে অ্যাপলকে পিছনে ফেলে বিশ্বের সবচেয়ে দামি সংস্থা হওয়ার পথে অ্যামাজন।

এর আগে ২০০৭ সালের শেষের দিকে  চীনের বৃহত্তম জ্বালানি তেল এবং গ্যাস উত্তোলক প্রতিষ্ঠান পেট্রো চায়না নামে একটি চায়নাভিত্তিক সংস্থা বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়ন ডলার কোম্পানি হওয়ার কথা শুনা যায়। কিন্তু অনেকেই এটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি, যেহেতু সংস্থাটির পাবলিক শেয়ার মাত্র ২%।

প্রসঙ্গত, অ্যাপল বা অ্যাপল ইনকরপোরেটেড হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যক্তিগত কম্পিউটার, কম্পিউটার যন্ত্রাংশ ও সফটওয়্যার নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের তৈরি ম্যাকিনটোশ কম্পিউটার তৈরির মাধ্যমে বেশি পরিচিতি লাভ করে। আধুনিক কম্পিউটারের মধ্যে রয়েছে আইম্যাক, ম্যাকবুক এয়ার, ম্যাকবুক প্রো ও দ্য ম্যাকবুক।  এ ছাড়া প্রতিষ্ঠানটি নিজেদের অপারেটিং সিস্টেম আইওএসের মাধ্যমে তৈরি করে আইফোন, আইপ্যাড ও আইপড।

Leave a Reply