সায়েন্স ওয়ার্ল্ড

যমজ গ্রহাণু বা বাইনারি অ্যাস্টারয়েডের সন্ধান পেলেন বিজ্ঞানীরা

Please log in or register to like posts.
খবর

এই প্রথম একটি এক জোড়া গ্রহাণু বা বাইনারি অ্যাস্টারয়েডের হদিশ পেলেন বিজ্ঞানীরা, যারা আকারে-আকৃতিতে হুবুহু একই রকমের। আর তারা একে অন্যকে পাক মারছে, নিয়মিত। ২০ থেকে ২৪ ঘণ্টা অন্তর। প্রতিটির ব্যাস ৩ হাজার ফুট বা, ৯০০ মিটার। গ্রহাণুটির নাম- ‘2017-YE-5’। পাথুরে গ্রহাণুটি কয়লার মতো কালো। নাসার নেতৃত্বে এই বিরল মহাজাগতিক বস্তুটির হদিশ পেয়েছে যে আন্তর্জাতিক গবেষকদল, তার সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন দুই বাঙালি-সহ ৬ ভারতীয় রেডিও জ্যোতির্বিজ্ঞানী।এমন মহাজাগতিক বস্তু যে এই ব্রহ্মাণ্ডে রয়েছে, তা জানাই যেত না, যদি না তা গত ২১ ডিসেম্বর এসে পড়ত পৃথিবীর খুব কাছে। ওই দিনই প্রথম সেটি এসে পড়েছিল পৃথিবী থেকে মাত্র ৩৭ লক্ষ মাইল (বা, ৬০ লক্ষ কিলোমিটার) দূরে। পৃথিবী থেকে চাঁদ যতটা দূরে রয়েছে, তার ১৬ গুণ দূরত্বে। পৃথিবীর এতটা কাছে ওই বিরল মহাজাগতিক বস্তুটি আবার আসবে ১৭০ বছর পর।

কেন বিরল এরা?

পৃথিবীর কাছে-পিঠে থাকা বাইনারি গ্রহাণুগুলির ১৫ শতাংশেরই শরীরের দু’টি খণ্ডের চেহারায় ভিন্নতা রয়েছে। একটি খণ্ড খুব বড়। অন্য খণ্ডটি অনেকটা চাঁদের মতো, খুব ছোট। এ সব ক্ষেত্রে একটি খণ্ডের জন্ম হতে পারে অন্য খণ্ডটি থেকে। ১৫ শতাংশের শরীরের দু’টি খণ্ড অনেকটাই গায়ে গা লাগিয়ে রয়েছে। কিন্তু সে দিক দিয়ে ‘2017-YE-5’ গ্রহাণুটি একেবারেই অন্য রকমের। এমন গ্রহাণুর জন্ম আলাদা ভাবে হতে পারে।

ওই বিরল গ্রহাণুর হদিশ পাওয়ার পর থেকেই তার চেহারা-চরিত্র জানতে ব্যস্ত হয়ে উঠেছিলেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা। গ্রহাণুটি যে একলা একলা ঘুরে বেড়াচ্ছে না মহাকাশে, দু’টি খণ্ডে ভাগ হয়ে রয়েছে তার দেহ, প্রথম তার ইঙ্গিত পায় নাসার গোল্ডস্টোন সোলার সিস্টেম রাডার (জিএসএসআর)। যার তদারকিতে ছিলেন বিশিষ্ট জ্যোতির্বিজ্ঞানী মারিনা ব্রোজোভি। কিন্তু সেই হদিশ মিলেছিল যে রাডারে, তা চালানো হয় দৃশ্যমান আলোক তরঙ্গে। অনেক দূর থেকে সেই গ্রহাণুকে বিজ্ঞানীরা দেখেছিলেন বলে বুঝতে পারেননি, সেই গ্রহাণুর দু’টি খণ্ড কি একে অন্যের সঙ্গে লেগে রয়েছে নাকি রয়েছে কিছুটা দূরে। এটাও বোঝা যায়নি, বিরল গ্রহাণুটির শরীরের দু’টি খণ্ড সমান চেহারার কি না।

ছবি ও ভিডিও সৌজন্যে: নাসার জেট প্রোপালসন ল্যাবরেটরি।

Leave a Reply