এনভায়রনমেন্ট
Now Reading
পৃথিবীর যে জায়গাগুলো এখনও রহস্যাবৃত

১. গ্যাংখার পিউনসাম, ভুটান

তিব্বত ও ভুটান সীমান্তে অবস্থিত এই চিত্তাকর্ষক পর্বতচুড়াটি উচ্চতায় বিশ্বের ৪০তম স্থানে রয়েছে। আর কেউই এখনো এর চুড়ায় উঠতে পারেননি।

২৪ হাজার ২৮০ ফুট উচ্চতার এই পর্বতচুড়াটি খুঁজে বের করতেই অনেক সময় লেগেছে মানুষের। আর এর অবস্থান খুঁজে পাওয়ার পর এতে আরোহন অসম্ভব বলেই ঘোষণা করা হয়। কারণ এটি খুবই ঠাণ্ডা এবং সবসময়ই এতে ঝড়ো হাওয়া বয়ে যায়। আর চুড়ার ঠিক আগে যে সেতুবন্ধটি রয়েছে তা এতটাই ঢালু যে তা বেয়ে চুড়ায় আরোহন সত্যিই সম্ভব নয়।
১৯৮৭ সালে ভুটান সরকার এতে আরোহন চেষ্টা পুরোপুরি নিষিদ্ধ করে। ভুটানের অনেকেরই বিশ্বাস এই পর্বতে ভূত-প্রেত এবং ইয়েতির মতো ভয়ঙ্কর দানবেরা বাস করে।

২. মারিয়ানা খাত

জাপানের কাছাকাছি প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত এই খাতটি পুরো পৃথিবীর সবচেয় গভীর স্থান। এর গভীরতা ৩৬ হাজার ২০১ ফুট।

১৯৫১ সালে এই খাতটি আবিষ্কৃত হয়। ১৯৬০ সালে সুইস বিজ্ঞানী জ্যাক পিকার্ড এবং মার্কিন নৌবাহিনীর লেফটেনেন্ট কর্নেল ডোনাল্ড ওয়ালশ একটি ডুবোজাহাজে করে এর তলদেশে ভ্রমণ করেছেন। ওই ডুবোজাহাজটির ডিজাইন করেছিলেন জ্যাক পিকার্ড এর বাবা। সেসময় এর তলদেশে পানির চাপ ছিল প্রতি ইঞ্চিতে ১৬ হাজার পাউন্ড।

আর সম্প্রতি হলিউডের কিংবদন্তী সিনেমা নির্মাতা জেমস ক্যামেরুন মারিয়ানা খাতের তলদেশে ভ্রমণে গিয়েছিলেন একটি বিশেষ ডুবোজাহাজে চড়ে। যেটি ডিজাইনে ক্যামেরুন নিজেও সহায়তা করেছেন। তিনি তার সঙ্গে ক্যামেরা নিয়ে গিয়েছিলেন এবং বিচিত্র সব সৃষ্টির ছবি তুলে আনেন। তার ওই ছবি থেকেই নতুন প্রজাতির একটি সামুদ্রিক শসা আবিষ্কৃত হয়েছে। তবে মারিয়ানা খাতটি এখনো পুরোপুরি উদঘাটন করা সম্ভব হয়নি। ফলে এখনো অনেক কিছুই অজানা রয়ে গেছে।

৩. উদাক (Oodaaq ) আইল্যান্ড, গ্রিনল্যান্ড

এই দ্বীপটি আবিষ্কৃত হয় ১৯৭৮ সালে। এর আবিষ্কর্তা ডেনমার্কের ভুগণিতজ্ঞ উফে পিটারসেন। যিনি গ্রিনল্যান্ডের উত্তরাংশেরও মানচিত্র এঁকেছেন।

তারা কাফেক্লুব্বেন নামের একটি দ্বীপকে গ্রিনল্যান্ডের উত্তর দিকের শেষ সীমা ভেবেছিলেন। কিন্তু এর একটু দুরেই তারা সমুদ্রে একটি বিন্দু দেখতে পান। এরপর বিমান নিয়ে উড়ে গিয়ে তারা এই ক্ষুদ্র দ্বীপটি আবিষ্কার করেন। পিটারসেন দ্বীপটির নামকরণ করেন ১৯০৯ সালে রবার্ট পিয়েরির উত্তর মেরু অভিযানের সঙ্গী এক এস্কিমো স্লেজ চালক ‘উদাক’র নামে। কিন্তু কথিত আছে এর কিছুদিন পর থেকেই দ্বীপটি আর দেখা যায়নি। তবে ২০০০ সালে আরেক ড্যানিশ নৃবিজ্ঞানী ড. পিটার স্কাফে উত্তর মেরুর দ্বীপ সমুহের ছবি তুলতে ও পর্যবেক্ষণ করতে গিয়ে উদাকের কোনো চিহ্ন খুঁজে পাচ্ছিলেন না। তবে ৮দিন পর ক্ষুদ্র দ্বীপটির একটি ছবি তার ক্যামেরায় ধরা পড়ে।

৪. ম্যাচাপুচারে, নেপাল

নেপালের অন্নপূর্না হিমালয়ে একটি পবিত্র পর্বত এটি। স্থানীয় ভাষায় একে বলা হয় মাছের লেজ পর্বত।
১৯৫৭ সালে উইলফ্রিড নোয়েস এবং এ.ডি.এম কক্স এতে আরোহন করলেও সর্বোচ্চ চুড়ায় ওঠেননি। কারণ স্থানীয় হিন্দুদের বিশ্বাস মতে সেখানে তাদের দেবতা শিব বাস করেন। ফলে নেপালের রাজাও তাদেরকে এতে আরোহরেণ নিষেধ করেন।

তবে কথিত আছে ১৯৮০-র দশকে নিউজিল্যান্ডের পর্বতারোহী বিল ডেনজ এতে আরোহন করেছিলেন। কিন্তু ১৯৮৩ সালে মানস পর্বতে উঠতে গিয়ে মারা ডান। ফলে সত্যটা কী তা জানা যায়নি।

৫. উত্তর পর্বত বন কমপ্লেক্স, মায়ানমার

মায়ানমারের সর্বোচ্চ পর্বতমালা এটি। হিকাক্যাবো রাজি ন্যাশনাল পার্ক এবং হিপোনকান রাজি ওয়াইল্ডলাইফ স্যাঙ্কচুয়ারি মিলে এই বন কমপ্লেক্স। ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ এর দক্ষিণের আরো কিছু এলাকা সহ মোট ৭০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকার বনকে সংরক্ষণের প্রস্তাব দিয়েছে।

ক্যামিব্রজ বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দেখা গেছে এই বনাঞ্চলের ১.৪ শতাংশেরও কম এলাকা মানুষের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে শিকারিরা প্রবেশ করেছে। তবে এর যে উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত আছে তা নিয়ে কোনো গবেষণা করা হয়নি। বিজ্ঞানী ও পর্বতারোহীরা এতে এখনো প্রবেশ করেননি। আসলে পুরো মায়ানমারের অর্ধেক এখনো জঙ্গলে ঢাকা। তথাপি সেখানে বন উজাড় চলছেই।

৬. অ্যান্টার্কটিকার বরফতলের লেক

১৯৭৩ সালে প্রথম আবিষ্কৃত হয় অ্যান্টার্কটিকার বরফ তলের এই লেক। অ্যান্টার্কটিকার বরফাবৃত ৫০ লাখ বর্গমাইল এলাকার নিচে ৪০টি জানা লেক আছে। এছাড়া রয়েছে আরো অসংখ্য অজানা লেক।

৭. নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড

ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগরে অবস্থিত আন্দামান দ্বীপপুঞ্চ। এটি বার্মা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যে অবস্থিত। এতে মোট ২০০ দ্বীপ রয়েছে। তারই একটি নর্থ সেন্টিনেল আইল্যান্ড। এটি দ্বীপপুঞ্জের একেবারে পশ্চিম সীমায় অবস্থিত। এর বাসিন্দা মাত্র ৫০ থেকে ৪০০ জন হবে হয়তো। কিন্তু কেউ নিশ্চিত নয়। কারণ এখানকার বাসিন্দারা বাইরের দুনিয়ার কাউকেই সেখানে প্রবেশ করতে দেয় না। ফলে এখানকার উদ্ভিদ ও প্রাণীজগত সম্পর্কে কোনো ধারণাই নেই আমাদের। এছাড়া এখানকার বাসিন্দাদের আধুনিক মানুষদেরকে আক্রান্তকারী কোনো রোগেরই প্রতিরোধ ক্ষমতা নেই। আধুনিক মানুষদের সংস্পর্শে আসলে তারা হয়তো বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারে। ফলেই কেউই আর তাদেরকে নিয়ে ঘাঁটাতে যায় না।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন