বিবিধ
Now Reading
যে রহস্যময় প্রাচীন ভাষার পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি

১৯ জুলাই ১৭৯৯ সালে সর্বপ্রথম আবিষ্কৃত হয় রোসেটা স্টোন। এই পাথরে প্রাচীন গ্রিক ও মিশরীয় ভাষায় যেসব লিপি ছিল সেসবের পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনো এমন অনেক প্রাচীন ভাষার লেখা রয়েছে যেগুলোর পাঠোদ্ধার সম্ভব হয়নি। আসুন যেনে নেওয়া যাক এই রহস্যময় লিপিগুলোর পরিচিতি।

১. মেরোয়াতিক স্ক্রিপ্ট
৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৩৫০ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত সুদানের মেরো নগরে ছিল কুশ রাজ্য। এই রাজ্যের লোকেরা মেরোয়াতিক ভাষায় লেখালেখি করত। এই ভাষায় দুটি লিপি ছিল- টানা-লেখা এবং চিত্রলিপি। দুটি লিপিই এসেছে মিশরীয় ভাষার লিপি থেকে। ১৯০৭-১৯১১ সালে এই লিপিগুলোর পাঠোদ্ধার করা হয়। কিন্তু এই ভাষার পরিপূর্ণ জ্ঞান অর্জন এখনো সম্ভব হয়নি। আরা ভাষার পূর্ণ বুঝ ছাড়া এই ভাষার বইগুলোর অনুবাদও সম্ভব হচ্ছে না। তবে এই ভাষাটি কোনা ভাষাগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্ত তা উদঘাটন করা গেছে। এটি নাইলো-সাহারান ভাষাগোষ্ঠীর উত্তর পূর্ব শাখার সদস্য।

২. সিন্ধু উপত্যকার ভাষা
সিন্ধু উপত্যকার প্রাচীন সভ্যতা (হরপ্পা ও মহেঞ্জোদাড়ো) বিকশিত হয়েছিল পাকিস্তান, ভারত, আফগানিস্তান এবং ইরানজুড়ে প্রায় চার হাজার বছর আগে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই সভ্যতার পতন ঘটেছিল। মেসোপটেমিয়া সভ্যতার লোকদের সঙ্গে এদের সক্রিয় বাণিজ্যিক সম্পর্ক ছিল। সিন্ধু সভ্যতার লোকেরা যে ভাষায় কথা বলেত তা ছিল সাঙ্কেতিক ভাষা। যার এখনো পুরোপুরি পাঠোদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।

তবে গবেষকদের ধারণা একদিন সিন্ধু সভ্যতার ভাষা ও মেসোপটেমীয় ভাষার একই লিপি হয়তো আবিষ্কার হবে। আর তখন হয়তো সিন্ধু সভ্যতার ভাষার পাঠোদ্ধার সম্ভব হবে। কেননা ইতিমধ্যেই মেসোপপেমীয় ভাষার পুর্ণ জ্ঞান অর্জিত হয়েছে। আর মেসোপটেমীয় ভাষা জ্ঞানের সূত্র ধরেই সিন্ধু ভাষার পাঠোদ্ধার সম্ভব হবে। একই বিষয়ে সিন্ধু ও মেসোপটেমীয় ভাষায় লিখিত কোনো লিপি যদি সত্যিই থেকে থাকে তাহলে তা পাওয়া যাবে ইরাক বা আরবীয় কোনো উপকূলে। কারণ এসব জায়গাতেই এই দুই সভ্যতার লোকদের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য সংঘটিত হয়েছে।

৩. লাইনিয়ার অ্যা
এটি ছিল প্রাচীন মিনোয়ানদের ব্যবহৃত একটি লেখার পদ্ধতি। ক্রিট দ্বীপে ২,৫০০ থেকে ১৪৫০ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই সভ্যতার বিকাশ। প্রায় ১০০ বছর আগে মিনোয়ান নগর নোসোস এ খনন চালিয়ে এই ভাষার লিপির অস্তিত্ব আবিষ্কৃত হয়।
৩,৫০০ বছর আগে থেরাদের উত্থানে মিনোয়ান সভ্যতার পতন ঘটে। নতুন এই জনগোষ্ঠীকে বলা হয় মাইসেনিয়ান। তারা মিনোয়ানদের পরাস্ত করে ক্রিটের ক্ষমতা দখল করে এবং নিজস্ব লিখন পদ্ধতি চালু করে যাকে বলা হয় লাইনিয়ার বি, যার পঠোদ্ধার সম্ভব হয়েছে।

৪. প্রোটো-এলামাইট
ইরানে ৫ হাজার বছর আগে ব্যবহৃত হত এই লিখন পদ্ধতি। মানুষের সবচেয়ে প্রাচীন ভাষাগুলোর একটি এই লিখন পদ্ধতির পুরোপুরি পাঠোদ্ধার এখনো সম্ভভ হয়নি। ফ্রান্সের ল্যুভর যাদুঘরে এই ভাষার বেশ কয়েকটি টেক্সট রয়েছে। ২০১৩ সালে এই টেক্সটগুলো ডিজিটাল লাইব্রেরীতে সংরক্ষণ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে হয়তো বিজ্ঞানীরা আরো সহজে এই টেক্সটগুলোতে প্রবেশাধিকার পাবেন।

৫. সাইপ্রো-মিনোয়ান
খ্রিস্টপূর্ব ১৬ এবং ১১ শতকে সাইপ্রাসে ব্যবহৃত হত এই লিপি। এই ভাষার ২০০ টেক্সট টিকে আছে। আর এসব টেক্সটের বেশিরাভাগই খুব সংক্ষিপ্ত। আর এ কারণেই এগুলোর পাঠোদ্ধার কঠিন হয়ে পড়েছে। কোনো বিষয় একই সঙ্গে এই ভাষায় লেখা এবং অন্য কোনো জানা ভাষায় তার অনুবাদ করা টেক্সট আবিষ্কৃত না হওয়া পর্যন্ত এই ভাষার পাঠোদ্ধার সম্ভব হবে না।

সূত্র: লাইভ সায়েন্স

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন