হেল্থ
Now Reading
সুস্থ থকতে নিয়মিত জগিং
jog

সুস্থ থকতে নিয়মিত জগিং

শরীর সুস্থ রাখতে সকাল সন্ধে জগিং করছেন? আখেরে কতটা লাভ হচ্ছে? সমীক্ষা বলছে, অন্য কথা। জগিংয়ে শ্রম বেশি, লাভ কম। শরীর নিরোগ ও ফিট রাখতে সাঁতার ও সাইক্লিংয়ের জুড়ি মেলা ভার। নিয়ম মেনে রোজ জগিং করে লাভ হচ্ছে কতটা? এখানেই উঠে আসছে মিথ এবং বাস্তবের প্রশ্ন।

ওজন কমানো ছাড়াও হার্ট, ফুসফুস, হাড়, অস্থিসন্ধি, ঘাড়, কোমর, হাঁটু ভাল রাখতে সাহায্য করে জগিং। এটা মিথ। শরীরের সব অঙ্গকে সুস্থ রাখতে জগিং দরকারি। তবে সাইক্লিং ও সাঁতার তার চেয়েও অনেক বেশি উপকারি। এটা বাস্তব। সম্প্রতি স্ক্যান্ডেনেভিয়ার একটি স্পোর্টস জার্নাল মেডিসিন অ্যান্ড সায়েন্সের এক গবেষণায় জানা গিয়েছে, শরীরচর্চায় দৌড়নোর চেয়েও বেশি ভাল সাইক্লিং ও সাঁতার। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতে শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমে, পেশি নমনীয় হয়, ওজন কমে তাড়াতাড়ি। দৌড়ের ক্ষেত্রে পায়ের পেশি সুগঠিত হয় ঠিকই, কিন্তু সাঁতারে সমস্ত পেশিই শক্তিশালী হয়। পেটের পেশিতে আরও জোর বাড়ে।

আমেরিকান জার্নাল অফ অ্যাপ্লায়েড ফিজিওলজির একটি গবেষণা প্রমাণ করেছে,  সাঁতারের ফলে হাড়ের ওজন বাড়ে এবং তা দৃঢ় হয়। সাঁতার ও সাইক্লিং হার্টের নানা সমস্যায় ভাল কাজ দেয়। হার্টের পেশি সুদৃঢ় করে। ট্রেডমিলে দৌড়নোর থেকেও অনেক তাড়াতাড়ি ক্যালোরি ঝরায় সাঁতার। ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৫৯০ ক্যালোরি খরচ হয় সাঁতার কাটলে। হাঁপানির সমস্যার সমাধান হয়। দুশ্চিন্তা ও অবসাদ কাটাতে জগিংয়ের চেয়েও সাঁতার ও সাইক্লিং অনেক বেশি উপকারি। ইউনিভার্সিটি অফ সাউথ ক্যারোলিনার সাম্প্রতিক একটি গবেষণায় পাওয়া গিয়েছে চমকপ্রদ তথ্য। যাঁরা নিয়মিত সাঁতার কাটেন, যে কোনও রোগে তাঁদের মৃত্যুর হার ২৮ শতাংশ কমে যায়। হৃদরোগে মৃত্যুর হার তাঁদের ক্ষেত্রে কমে ৪১ শতাংশ। যাঁরা নিয়মিত সাইক্লিং করেন, যে কোনও রোগে তাঁদের মৃত্যুর হার কমে ১৫ শতাংশ। হৃদরোগে মৃত্যুর হার তাঁদের ক্ষেত্রে কমে ৩৬ শতাংশ। কিন্তু যাঁরা নিয়মিত জগিং করেন, তাঁদের মৃত্যুর হার নিয়ে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পাওয়া যায়নি।

হৃদয়ের যত্ন নিন। শুধুমাত্র হৃয়দকে ভাল রাখার প্রতিশ্রুতি দিলেই তো হবে না। প্রতিশ্রুতি রাখতে হবে। সাইক্লিং বা সাঁতার সেই প্রতিশ্রুতি রাখতে সক্ষম। এমনটাই বলছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে প্রিয়জনের কারণে হৃদয়ভঙ্গ হলে সাইক্লিং বা সাঁতার কাজে নাও লাগতে পারে।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন