সায়েন্স ওয়ার্ল্ড
Now Reading
দ্বিতীয়বারের মতো মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রমাণ পেলেন বিজ্ঞানীরা

বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইনের তত্ত্বের প্রমাণ দ্বিতীয়বারের মতো পেলেন বিজ্ঞানীরা। মাস কয়েক আগে এই বিষয়ে প্রথমবার প্রমাণ পাওয়ার পর আজ  বুধবার সহস্রাধিক বিজ্ঞানীদের একটি দল দ্বিতীয়বার মহাকর্ষীয় তরঙ্গের প্রমাণ পাওয়ার এই ঘোষণা দেন। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আগের ধারণার চেয়ে ছোট্ট আকৃতির ব্ল্যাকহোলের সংখ্যা আরো বেশি থাকতে পারে। এই গবেষণা বিজ্ঞান সাময়িকী ‘ফিজিক্যাল রিভিউ লিটারস’ এ প্রকাশিত হয়েছে। লেজার ইন্টারফিরোমিটার গ্রাভিটেশনাল ওয়েভ অবজারভেটরির (লিগো) নির্বাহী পরিচালক ডেভিড রিটজ বলেন, আমরা আগে যা কল্পনাও করতে পারিনি তার চেয়ে অধিক ব্ল্যাকহোল থাকতে পারে। গত ডিসেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানার লিভিংস্টোনে এবং ওয়াশিংটনের হ্যানফোর্ডে থাকা দুটি লিগোতে ধরা পড়ে এই তথ্য যা এখন প্রকাশ করা হলো।

১৯১৫ সালে আইনস্টাইন তাঁর ‘জেনারেল থিওরি অব রিলেটিভিটি’ তত্ত্বে দেখিয়েছিলেন, যে কোন বড়সড় বস্তু, গ্রহ-নক্ষত্র, তার চারপাশের স্থান ও সময়ের গাঁথুনিতে একটা সংকোচন তৈরি করে। এর ফলে গতিশীল বস্তু তৈরি করে গতিশীল সংকোচন। এখন, যদি বস্তুটির মহাকর্ষীয় বলের মান ও দিকে যদি কোন বড় ধরনের পরিবর্তন আসে; যেমন, যদি নক্ষত্রটির উপরিতল এবড়ো থেবড়ো হয় এবং নক্ষত্রটি আরেকটি নক্ষত্রের সাথে চলমান সংঘর্ষে (অথবা পারস্পরিক ঘূর্ণনে) লিপ্ত হয়, তাহলে, তার মহাকর্ষীয় বলের ফলে যে সংকোচন প্রসারণ, তা অনেক দূর পর্যন্ত ঢেউয়ের আকারে ছড়িয়ে পড়ে। এই সেই গ্র্যাভিটেশনাল ওয়েভ।

যদি নক্ষত্রটির উপরিতল এবড়ো থেবড়ো হয় এবং নক্ষত্রটি আরেকটি নক্ষত্রের সাথে চলমান সংঘর্ষে (অথবা পারস্পরিক ঘূর্ণনে) লিপ্ত হয়, তাহলে, তার মহাকর্ষীয় বলের ফলে যে সংকোচন প্রসারণ, তা অনেক দূর পর্যন্ত ঢেউয়ের আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

যদি নক্ষত্রটির উপরিতল এবড়ো থেবড়ো হয় এবং নক্ষত্রটি আরেকটি নক্ষত্রের সাথে চলমান সংঘর্ষে (অথবা পারস্পরিক ঘূর্ণনে) লিপ্ত হয়, তাহলে, তার মহাকর্ষীয় বলের ফলে যে সংকোচন প্রসারণ, তা অনেক দূর পর্যন্ত ঢেউয়ের আকারে ছড়িয়ে পড়ে।

আমাদের পৃথিবীর দিকে যদি এরকম কোন ঢেউ আসে, এবং আমরা তখন স্থান ও কালের মধ্যে কম্পন মাপতে পারি, তাহলে আমরা সেই মহাকর্ষীয় বলের ঢেউ চিহ্নিত করতে পারব। কিন্তু পৃথিবীকে স্থান-কালের মাঝে সূক্ষ্ম থেকে ক্ষীণতর পরিবর্তন মাপার মত যন্ত্র তৈরি করতে অপেক্ষা করতে হয়েছে আরও একশো বছর। অবশেষে গত বছরের সেপ্টেম্বরে দুটি এলআইজিও গবেষণাগার কাজ শুরু করে। দুই মাসের কম সময়ে, প্রায় ১ দশমিক ৪ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরত্বের দুটি পাশাপাশি কৃষ্ণ-নক্ষত্রের (ব্ল্যাক হোল১০) সংঘর্ষের ফলে একটি কালো-নক্ষত্রে পরিণত হবার ঘটনা ধরা পড়ে। এটা টেলিস্কোপের মত কিছু নয়। বরং, এই সংঘর্ষের ফলে যে মহাকর্ষীয় ঢেউ, বিলিয়ন বছর ধরে আসতে আসতে পৃথিবীতে এসে পৌঁছেছে, তার ফলে সৃষ্ট খুবই কম সময় (প্রায় ২০ মিলি-সেকেন্ড) ধরে চলা এটা খুবই সামান্য স্থানের কম্পন রেকর্ড করা হয় ওই লিগো মেশিনে। এরপর চরম গোপনীয়তায় কয়েক মাস নিশ্চিতকরণ গবেষণা চালানোর পর তা প্রকাশ করা হয় সবার কাছে।

নিচের বাটনগুলোর সাহায্যে খবরটি শেয়ার করুন